বরিশাল বিভাগে করোনাভাইরাসে গত বছরের নভেম্বর ডিসেম্বর মাসের মোট শনাক্তের চেয়ে আড়াইগুণ বেশি শনাক্ত হয়েছে চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৯ দিনে। চলতি মাসে এ বিভাগের ৬ জেলায় ২৬৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আর নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে মোট শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৮৮। তবে মধ্য অক্টোবরের পর থেকে এ বিভাগে করোনা শনাক্ত কারও মৃত্যু হয়নি।
আজ বুধবার সকালে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে বরিশাল বিভাগে ২৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। এর পরের ৭ দিনে শনাক্ত হন ৬৪ জন। ১৫ থেকে ১৯ জানুয়ারি—এই ৫ দিনে শনাক্ত হয়েছেন ১৭২ জন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ৪৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে ৬০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে বিভাগে সংক্রমণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৬১ শতাংশে। নতুন শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল জেলায় ২২ জন, পটুয়াখালীতে ৬ জন, ভোলায় ১৪ জন, পিরোজপুরে ১২ জন, বরগুনায় ২ জন ও ঝালকাঠি জেলায় শনাক্ত হয়েছেন ৪ জন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন ৪২ জন, সোমবার সকাল পর্যন্ত ৩৮ জন।
গতকাল বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে ভাইরাসটির উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মহামারি শুরুর পর থেকে এ হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ২৪ জন, আর করোনায় মারা গেছেন ৪২৮ জন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানাচ্ছে, এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই বিভাগটির ছয় জেলায় করোনা শনাক্তের হার বাড়ছে। এর ফলে করোনার তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলায় ডেডিকেটেড হাসপাতাল ও জেলা-উপজেলা হাসপাতালগুলোর করোনা ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কয়েক দিন ধরেই রোগী আসছে, প্রতিদিনই তা বাড়ছে। হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৩০০। রোগী এর বেশি হলে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে জরুরি মুহূর্তে বিকল্প কী করণীয়, সে বিষয়ে আমরা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।’
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও উপপরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল আজ প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ-তিনগুণ হারে বাড়ছে। এর পেছনে বড় কারণ স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা। স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে না মানলে সংক্রমণ আগের চেয়েও ভয়াবহ গতি পেতে পারে। এ জন্য মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন।
0 Comments
If you have any problem. Please let me know.